কাপাসিয়ায় অপহরণের ৭ মাস পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার

আলোকিত প্রতিবেদক : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ফুঁসলিয়ে অপহরণের প্রায় সাত মাস পর নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

উপজেলার ডুমদিয়া গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

মানবাধিকার সংস্থা ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্টের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কির্ত্তুনিয়া ইছব আলী ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে ডুমদিয়ার সুমন গং অপহরণ করে। এ ঘটনায় সংস্থাটির সহায়তায় ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন।

গত ১০ মার্চ অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা আক্তারকে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

পরে মাহবুবা আক্তার তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুমন আগেও একাধিকবার ছাত্রীটিকে অপহরণ করেন। পরে তাকে সুমনদের কবল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। বয়স ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাকে রাখা হয় নিরাপত্তা হেফাজতে।

পরিবেশ কিছুটা শান্ত হলে সে হেফাজত থেকে বাড়ি চলে আসে। সুমনের হাত থেকে রক্ষা পেতে ডুমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ছেড়ে কির্ত্তুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। সে গত বছর জেএসসি পাস করে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়ন শুরু করে।

পরে গত ৪ জানুয়ারি বিকেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির কাছে সামনা ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে সিএনজিযোগে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় পরদিন অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে তার মা কাপাসিয়া থানায় এজাহার দিলে ওসি মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

অথচ ওই ছাত্রীর বয়স সাড়ে ১৩ বছর। আইনের দৃষ্টিতে সে একজন শিশু।

পরে বিষয়টি নিয়ে কাপাসিয়ায় ওই মানবাধিকার সংস্থার কার্যালয়ে বাদী ও সুমনের পিতা রিয়াজ উদ্দিনকে নিয়ে বসা হয়। সেখানে রিয়াজ উদ্দিন স্বীকার করেন, ছাত্রীটি তাদের কাছেই আছে। তখন তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তাকে ফিরিয়ে দেবেন বলে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন।

পরে নির্ধারিত তারিখে ফিরিয়ে না দেওয়ায় সুমনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে তারা হাজির হয়ে বিয়ের কাবিননামা দেখিয়ে জামিন নেন।

কিন্তু নাবালিকার বিয়ের বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্ট। তাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জন্ম সনদ ও স্কুল সনদ অনুযায়ী ২০১৪ সালে ছাত্রীটির বয়স ছিল ১১ বছর। সে সময় তার বয়স ১৮ দেখিয়ে বিবাহ নিবন্ধন করেন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের কাজি এ কে এম আরিফুল্লাহ।

তার কাছে জানতে চাইলে তিনি সংস্থাকে জানান, কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়ন পরিষদ প্রদত্ত জন্ম সনদ (নিবন্ধন নং-০০৫০১০) অনুযায়ী ছাত্রীটির বয়স ১৮ বছর।

এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এম এ জলিল জানান, জন্ম সনদটি ভুয়া। প্রকৃতপক্ষে ছাত্রীটির জন্ম তারিখ ২০০২ সালের ১৪ নভেম্বর।

পরে ওই কাজি কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে বিয়ের নিবন্ধন বাতিল করে উভয় পক্ষকে অবহিত করেন।

বিয়ে বাতিল হয়ে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়ে সুমন পরিবার। তারা জামিন বাতিল ও সাজার ভয়ে এলাকার মেম্বার-চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় ছাত্রীটিকে তার পিতা-মাতার কাছে ফিরিয়ে দেন বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, কাপাসিয়ার পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা সঠিকভাবে কাজ করছে না। তারা একটু দায়িত্বশীল হলে ছাত্রীটি আগেই উদ্ধার হত।

আরও খবর

Contact Us