,
শিরোনাম

গাজীপুরে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য এলাকায় হেলথকেয়ার বেপরোয়া

27 May 2017, 11:55 pm

আলোকিত প্রতিবেদক : গাজীপুরে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য এলাকায় নতুন আটটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছে দখলবাজ হেলথকেয়ার ফার্মা।

মহানগরীর রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তার পশ্চিমে বাংলাবাজার রোডে গজারিয়া পাড়ায় চলছে এ বেআইনি কর্মকান্ড।

ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংকটের হুমকিতে পড়ছে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান।

সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয় উদ্যান থেকে পৌনে এক কিলোমিটার দূরত্বে হেলথকেয়ার অবস্থিত। কারখানাটির তিন দিক দিয়ে বনভূমি। বাউন্ডারি ঘেঁষে গজারি ও আকাশমনি গাছের সারি।

গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে পশ্চিম পাশে চোখে পড়ল নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ। এর মধ্যে বনের জমি আছে বলে অভিযোগ। বাউন্ডারির পাশে দেখা গেল কয়েকটি মৃত বড় গজারি গাছ।

কারখানার পশ্চিম ও দক্ষিণে আরও অন্তত সাতটি নতুন বড় ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। এগুলোতে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অথচ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ বলছে, সরকার ঘোষিত অভয়ারণ্য এলাকা থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত কোর জোন। এর মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা পরিচালনা নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা দন্ডনীয় অপরাধ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হেলথকেয়ার শুরুতেই বনের ২ নং খতিয়ানভুক্ত আরএস ৩৩৪ ও ৩৩৬ নং দাগের ৩০ শতাংশ জমি দখল করেছে। ২০ ধারা মতে তা সংরক্ষিত বনভূমি। তাই বন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেও তারা লিজ পায়নি।

এ ছাড়া ১০/০৭ নম্বর উচ্ছেদ মামলার প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে করা জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ তালিকায়ও হেলথকেয়ারের নাম রয়েছে। পরে তা ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এ ব্যাপারে হেলথকেয়ারে যোগাযোগ করলে নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফজলুল হক একটি কক্ষে বসান। খবর পেয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা কোন কথা বলতে রাজি হননি।

তবে ফজলুল হক বলেন, আমাদের মালিক দানবীর আলাউদ্দিন। ফরেস্টাররা এসে খেয়ে নিয়ে যায়।

এ সময় ভিডিও করা হচ্ছে বলে চিৎকার দিয়ে তিনি প্রতিবেদক মেহেদী হাসান সবুজের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

পরে সাবেক এই সেনা সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রীও একজন শিল্পপতিকে কিছু করতে পারে না। ৩০ শতাংশ কেন, পুরোটা বনের জমিতে হলেও কিছুই করতে পারবেন না।

এ ব্যাপারে বাউপাড়া বিট কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলাম বলেন, হেলথকেয়ার ডিমারগেশন ছাড়াই কাজ করছে। তাদের পরিবেশের ছাড়পত্রও থাকার কথা নয়।

জানতে চাইলে জাতীয় উদ্যান রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল হাসেম বলেন, আমরা আদালতে লড়ছি। কিন্তু মালিকের টাকার কাছে পারছি না।

Print Friendly, PDF & Email