,
শিরোনাম

গাজীপুরে কোর জোনে বনভূমি দখল করে কারখানা!

17 July 2017, 11:39 pm

আলোকিত প্রতিবেদক : গাজীপুরের ভাওয়াল ও জাতীয় উদ্যান রেঞ্জে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে উঠছে শিল্প কারখানা।

এতে কোর জোনের নীতিমালাও মানা হচ্ছে না। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বন ও পরিবেশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তার একটু উত্তরে গিয়ে পশ্চিম দিকে ডগরী রোড। এই রোড দিয়ে সামনে এগোলে ঘন গজারি বনের ফাঁকে ফাঁকে নিচু ফসলি জমি। রোডের পাশে বন ঘেঁষে বালুর স্তূপ। মরে যাচ্ছে গাছ। বালু ফেলে বনের নিচু জমিও ভরাট করা হচ্ছে। স্তূপ থেকে বালু পাইপ দিয়ে উত্তর দিকে নিয়ে দুই একর ৩০ শতাংশ নিচু জমি ভরাটের কাজ চলছে।

উপস্থিত প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. বাদশা জানালেন, তাদের কারখানার নাম এলফিস। সেখানে প্যান্টের ইলাস্টিক তৈরি করা হবে।

এর পশ্চিম পাশে বড় কারখানা নির্মাণ করছে আরেকটি শিল্প গ্রুপ। দুটি স্পটের মাঝে চোখে পড়ল কেটে নেওয়া কয়েকটি আকাশমনি গাছের মোথা।

এ ব্যাপারে বিকে বাড়ী বিট কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম আলোকিত নিউজকে বলেন, এলফিস রাতের অাঁধারে বালু ফেলে বনের জমি দখল করছে। ইতিমধ্যে ৭৭ শতাংশ দখল করা হয়েছে। এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পাহারা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, গত ২৪ জুন ঘটনাটি রেঞ্জ কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এর অনুলিপি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষককে দেওয়া হয়েছে। এরপরও দখল থামছে না।

জাতীয় উদ্যান থেকে এলফিস ও পাশের কারখানার দূরত্ব এক থেকে দেড় কিলোমিটার। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ অনুযায়ী, সরকার ঘোষিত অভয়ারণ্য এলাকা থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত কোর জোন। এর মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা পরিচালনা নিষিদ্ধ।

এদিকে বাংলাবাজার রোডের জাঙ্গালিয়া পাড়ায় এলিগেন্স সোয়েটার কারখানা অবস্থিত। স্থাপনা ভাড়া নিয়ে ২০১৩ সালে কারখানাটি চালু হয়। পরে মালিক দক্ষিণ পাশের বনভূমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেন। জেনারেটর রুমের ওই স্থাপনাটি এখন আরও বড় করা হচ্ছে।

ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, স্থাপনার কাজ শুরু হলে বাউপাড়া বিট কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলাম ও বনপ্রহরী নুরুল ইসলাম রাজমিস্ত্রি আনিছকে আটক করেন। পরে তাকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়া হয় বলে অভিযোগ।

বিট অফিসের একজন জানান, স্থাপনার কাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল। পরে রেঞ্জ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ঘুরে আসার পর আবার কাজ শুরু হয়।

এ ব্যাপারে এলিগেন্সের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, বন বিভাগের লোকজনের অনুমতি নিয়েই আমরা কাজ করছি।

জানতে চাইলে রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল হাসেম আলোকিত নিউজকে বলেন, এলফিসের বিষয়ে প্রতিবেদন ডিএফওর কাছে পাঠিয়েছি। বাউপাড়ার ফরেস্টার ভাল। তাকে এলিগেন্সে পাঠাচ্ছি।

Print Friendly, PDF & Email