,
শিরোনাম

মুক্তিযুদ্ধে ভালুকা কাঁপান মেজর আফসার উদ্দিন

6 September 2017, 7:33 pm

শফিউর রহমান সেলিম, ময়মনসিংহ : মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহের ভালুকায় বিশাল এক বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া মেজর আফসার উদ্দিন আহমেদ।

আফসার উদ্দিনের নামে পরিচিত এ বাহিনী শত্রুদের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণসহ সব কাজই সেরেছে দেশের ভেতর।

এ বাহিনী ভালুকা, ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া, গফরগাঁও, গাজীপুরের শ্রীপুর, জয়দেবপুর, মির্জাপুর ও কালিয়াকৈরসহ আশপাশের এলাকায় মুক্তাঞ্চল গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য এলাকার মানুষের কাছে কিংবদন্তিতে পরিণত হন আফসার উদ্দিন। যুদ্ধে নিজ সন্তানকেও হারিয়েছেন এই বীর।

আফসার উদ্দিন ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। যুদ্ধ শেষে ১৯৪৮ সালে বাড়িতে চলে আসেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিভিন্ন এলাকার মত ভালুকায়ও প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। এতে ঝাঁপিয়ে পড়েন আফসার উদ্দিন।

১৭ এপ্রিল মাত্র সাতজন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে তিনি মল্লিকবাড়ী গ্রামে একটি ব্যাটালিয়ন গঠন করেন। যা পরে আফসার বাহিনী নামে খ্যাতি লাভ করে।

তারা হলেন আমজাদ হোসেন, আবদুল খালেক, নারায়ণ চন্দ্র পাল, আবদুল বারেক, আবদুল মান্নান, অনিল চন্দ্র সাংমা ও ছমর উদ্দিন।

শুরুর দিকে ভালুকার রাজৈ গ্রামের আওয়ামী লীগের কর্মী আবদুল হামিদের কাছ থেকে একটি রাইফেল ও ৩১ রাউন্ড গুলি সংগ্রহ করেন আফসার উদ্দিন।

তাকে বাহিনী গঠনে সাহায্য করেন মাওলানা আলী ফকির, ডা. হাফিজ উদ্দিন, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল হাফিজ, মোছলেম মিয়া ও বাবু প্রেমনাথ অধিকারী।

আফসার উদ্দিনের ভাষায়, আমি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রশিক্ষণ শিবির গঠন করেছি, এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর ইপিআর-আনসার-মোজাহিদদের ভেতর থেকে অনেকেই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার বাহিনীতে যোগ দিতে থাকেন। কয়েক দিনের মধ্যেই ৫০০ মুক্তিযোদ্ধার এক বাহিনী গড়ে তুললাম।

আফসার বাহিনীতে স্থানীয় জনতা ও ছাত্ররা সংখ্যায় বেশি ছিলেন। তবে কিছু আনসার, পুলিশ ও সেনা সদস্যও ছিলেন।

আফসার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ছিলেন তিনি নিজেই। সহকারী অধিনায়ক ছিলেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে দুজন শহীদ হয়েছেন।

আফসার বাহিনী ১৫০টি যুদ্ধে অংশ নেয়। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ৭৫টি যুদ্ধে অংশ নেন বলে জানা যায়।

২১ মে ভালুকা থানা আক্রমণ করে ১৬টি রাইফেল, ৩০টি বেয়নেট ও এক হাজার ৬০০ রাউন্ড গুলি হস্তগত করে আফসার বাহিনী।

২৫ জুন ভাওয়ালিয়াবাজু যুদ্ধে ৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে খতম করে এই চৌকস বাহিনী।

আফসার উদ্দিন ১৯২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ত্রিশালের চাউলাদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তার নানার বাড়ি ভালুকার ধামশুর গ্রামে। তিনি ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান।

Print Friendly, PDF & Email