শ্রীপুরে মডেল টেস্ট পরীক্ষার নামে বাণিজ্য রমরমা

শ্রীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের
শ্রীপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মডেল টেস্ট পরীক্ষার নামে চলছে রমরমা বাণিজ্য।

উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২৮টি মাদ্রাসাসহ কিন্ডারগার্টেনগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই সরকারের নির্দেশ অমান্য করছে।

এর মধ্যে
মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, সাতখামাইর উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী ছোট কলিম উচ্চ বিদ্যালয়,
ধনুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, টেপিরবাড়ী আনসার উচ্চ বিদ্যালয়, টেপিরবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়
ও তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয় অন্যতম।

সরকারি
বিধি অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরে দুটি পরীক্ষা অর্থাৎ অর্ধ-বার্ষিক ও বার্ষিক
পরীক্ষা নেওয়ার কথা।

কিন্তু
প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে হাতিয়ে নেওয়া
হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

চলতি মাসে পরীক্ষার জন্য ক্লাসে ক্লাসে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।

যেসব শিক্ষার্থী
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে না, তাদের ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে। পুনরায় ভর্তি হলে জানুয়ারি
থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফি পরিশোধ করতে হবে।

একাধিক
শিক্ষক জানান, ১৮ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হলে শেষ হতে সময় লাগবে ১২ দিন। তা ছাড়া
১ মে থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত রমজান ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি ৩৪ দিন।

অর্ধ-বার্ষিক
পরীক্ষা আগামী ২০ থেকে ২৫ জুনের মধ্যে শুরু হতে পারে। এ অবস্থায় এক সপ্তাহে সিলেবাস
শেষ করা কী আদৌ সম্ভব?

তেলিহাটি
উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫০
টাকা ও নবম-দশম শ্রেণিতে ৪০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক এমপির দোহাই দিয়ে
চলেন।

হাজী ছোট
কলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ফারজানা আক্তার জানায়, এ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের ক্ষতি
হচ্ছে। কারণ সিলেবাস শেষ না হওয়ায় পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া যাচ্ছে না।

কয়েকজন অভিভাবক
বলেন, অতিরিক্ত টাকার জন্য পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। আমরা অনৈতিক পরীক্ষা বন্ধ করে ক্লাস
নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

কাওরাইদ কেএন
উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিজিৎ রায় বলেন, আমরা মডেল টেস্ট নিই না। বাড়তি পরীক্ষার কারণে
অনেক সময় নষ্ট হয়। বিকল্প হিসেবে ক্লাস টেস্ট নেওয়া যেতে পারে।

তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী মনসুর মানিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, নবম-দশম শ্রেণিতে ফি ৪৫০ টাকা ধরা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম আলোকিত নিউজকে বলেন, বিধি অনুযায়ী বছরে দুটি পরীক্ষা নেওয়ার কথা। কেউ যদি অর্থের নিয়তে পরীক্ষা নিতে চায়, তা হতে দেওয়া হবে না।