শ্রীপুরে ফরেস্টার সেলিমের ‘দখল বাণিজ্য’ চলছেই

আলোকিত প্রতিবেদক : গাজীপুরের শ্রীপুর সদর বিটে মূল্যবান বনভূমি দখল চলছেই।

দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে দখলযজ্ঞ চললেও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

বিষয়টির ওপর গত ২৮ এপ্রিল আলোকিত নিউজ ডটকমে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে চলে তোলপাড়।

পরে গত ১ মে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউছুপ এলাকা পরিদর্শনে আসেন।

তখন বিট কর্মকর্তা সেলিম মিয়াসহ সংশ্লিষ্টরা গেজেটভুক্ত বনভূমিকে কৌশলে জোত বুঝিয়ে ধামাচাপার চেষ্টা চালান।

সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত কয়েক মাসে বনভূমি দখল করে বেশ কিছু বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে লেনদেন হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা।

ভাংনাহাটি এলাকার গ্রীন ভিউ রিসোর্টের উত্তর পাশে গেজেটভুক্ত সিএস ও এসএ ১৭৬৬ নং দাগে ১২ শতাংশ জমি কিনে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছেন আল আমিন।

তাদের কারও যৌথ ডিমারকেশন নেই। সংলগ্ন উত্তর পাশের আরএস ৭২৩৯ নং দাগটিও বনের।

ডিএফও চলে যাওয়ার পর কাজ সাময়িক বন্ধ থাকলেও এখন চলছে পুরোদমে।

এ ছাড়া বৈরাগীরচালায় গেজেটভুক্ত সিএস ও এসএ ১৮৩৫ নং দাগে জহিরুল ইসলামের ছয় রুমের এবং ছাপিলাপাড়ায় আলম হোসেনের চার রুমের বাড়ির কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে বনভূমি দখল করে নতুন আরও কয়েকটি বাড়ি নির্মাণের তথ্য পাওয়া গেছে।

দক্ষিণ ভাংনাহাটিতে গেজেটভুক্ত সিএস ও এসএ ১৮৭১ নং দাগে ফাউন্ডেশন দিয়ে বড় বাড়ি করছেন মোবারক খানের ছেলে আরিফ খান।

তিনি আলোকিত নিউজকে বলেন, বনের নামে গেজেটের জমিতে ফ্যাক্টরি কী হচ্ছে না? আমার বাবার নামে আরএস। আপনি সাক্ষাতে কথা বলেন।

বিন্দুবাড়ীতে আরএস ২০৯ নং দাগের বনভূমিতে ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ি করছেন বেসরকারি ব্যাংকের চাকরিজীবী শরীফ।

টিনের বেড়ায় ঢেকে পিলারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিট অফিস বাগান না করায় ওই বনভূমি পতিত ছিল।

দোয়াইবাড়ীর নার্সারি মাঠ এলাকায় আরএস ৭৫২ নং দাগের বনভূমিতে দুটি পাকা রুমের বাড়ি করেছেন সিএনজি চালক আজগর আলী।

গাড়ারনের বলুবাড়ীতে আরএস ১০৬৪ ও ১০৬৬ নং দাগের বনভূমিতে তিনটি পাকা রুমের বাড়ি করেছেন পান ব্যবসায়ী জুয়েল।

গত বছর কাজ শুরু হলে বিট অফিস প্রথমে বাধা দেয়। পরে মাস দুয়েক আগে তিনি কাজ সম্পন্ন করেন।

কেওয়া বেপারীপাড়ার পাশে গেজেটভুক্ত সিএস ও এসএ ৭২০৩ নং দাগে ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ি ও দোকান করেছেন মৃত নূরুল ইসলামের মেয়ে রাশিদা খাতুন।

অপরদিকে গত ডিসেম্বরে গ্রীন ভিউ রিসোর্টের উত্তর পাশে হাফিজ উদ্দিনের দখল থেকে ৭২৩৯ নং দাগের ১০৪ শতাংশ বনভূমি উদ্ধার করেছিল বিট অফিস।

পরে কালক্ষেপণ করে বাগান না করায় তা আবারও দখলে নেন তার ছেলে নাজিম উদ্দিন। সীমানা খুঁটিগুলো উঠিয়ে সেখানে করা হচ্ছে চাষাবাদ।

এ ব্যাপারে বিট কর্মকর্তা সেলিম মিয়ার সাথে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল ধরেননি।

আরও পড়ুন : শ্রীপুরে বনভূমি দখল করে আলিশান ও পাকা বাড়ি!

Print Friendly, PDF & Email
Share
  • 877
    Shares
আরও খবর