কাপাসিয়া কলেজে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ অধ্যক্ষ ছানাউল্লাহর কালোছায়া!

আলোকিত প্রতিবেদক : গাজীপুরের কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের পিছু ছাড়ছে না অনিয়ম ও দুর্নীতি।

বহুল আলোচিত অধ্যক্ষ মো. ছানাউল্লাহ বিদায় নিলেও তার কালোছায়া এখনো আঁকড়ে আছে।

বারবার অভিযোগ উঠলেও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকা সাবেক জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর রহস্যজনক ভূমিকা পালন করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছানাউল্লাহর নানা অনিয়ম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তে প্রমাণিত হয়। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট করে বরখাস্তের প্রক্রিয়া আটকে রাখেন।

কলেজের জমি বিক্রিসহ দুর্নীতির ফিরিস্তি দৈনিক অন্যদিগন্ত ও আলোকিত নিউজ ডটকমসহ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

সাবেক জেলা প্রশাসক গত বছর তদন্ত কমিটি গঠন করলেও অদ্যাবধি তদন্ত শুরুই হয়নি। তিনি শুধু ‘ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’ বলে সময়ক্ষেপণ করেন।

এ ছাড়া পাঁচ বছরের আয়-ব্যয়ের অডিট করালেও রিপোর্ট প্রকাশ করেননি হুমায়ূন কবীর। সুযোগ পেয়ে মেয়াদ পূর্ণ করেন দুর্নীতিগ্রস্ত অধ্যক্ষ ছানাউল্লাহ।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সমাচার : ছানাউল্লাহর শেষ কর্মদিবস ছিল গত ১৯ মে। পদ শূন্য হওয়ার আগেই তিনি গত ১ মে প্রথম আলো পত্রিকায় অধ্যক্ষ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেন।

বিধি অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার পর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বিজ্ঞপ্তি দিবেন। নিয়োগের আগ পর্যন্ত জ্যেষ্ঠতম শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ বিধি মোতাবেক দরখাস্ত আহ্বান করা যাচ্ছে। এ নিয়েও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

কারণ সরকারি বিধি অনুযায়ী, ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ ও উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষরা প্রার্থী হিসেবে আবেদন করতে পারবেন।

আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী, ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজ ব্যতীত উচ্চ মাধ্যমিকের প্রার্থীদের অধ্যক্ষ পদে আবেদন করার সুযোগ নেই।

এসব বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওয়াজিদুর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এদিকে সাবেক অধ্যক্ষ ছানাউল্লাহর রিটের নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। তিনি কৌশলে অবসর সুবিধা নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ।

image_printপ্রিন্ট করুন
Share
  • 233
    Shares
আরও খবর