গাজীপুরে ‘বনভূমিতে’ কাউন্সিলর মোশারফের মার্কেট ও বাড়ি!

আসিফ আহমেদ : গাজীপুরে মূল্যবান বনভূমি দখল করে মার্কেট ও বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

নগরীর বাংলাবাজার এলাকায় প্রকাশ্যে এসব ঘটলেও জাতীয় উদ্যান রেঞ্জ ও বাউপাড়া বিট অফিস পালন করছে নীরব ভূমিকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিল্প কারখানা অধ্যুষিত ২২ নং ওয়ার্ডের বাংলাবাজারে কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনের বাড়ি। তিনি বাড়ি সংলগ্ন পূর্ব পাশে মার্কেট নির্মাণ করছেন।

কাউন্সিলরের মার্কেটের সামনের অংশ

এরই মধ্যে নিচ তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভাড়া দেওয়া হচ্ছে একাধিক শোরুমসহ বেশ কয়েকটি দোকান।

মার্কেটটির পূর্ব দিক দিয়ে ইপিলিয়ন স্টাইল কারখানার রোড। সেখানকার সেগুন বাগানের পশ্চিম পাশে ছয় শতাংশ জমিতে পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করছেন কাউন্সিলর মোশারফ।

ঈদুল আজহার আগে কাজটি দ্রুত গতিতে শুরু হয়। এখন নিচ তলার ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছে।

এর পাশে দুই ইউনিটের বাড়ি নির্মাণ করছেন কাউন্সিলরের ভাগিনা মোস্তফা। কিছুদিন আগে তৃতীয় ও চতুর্থ তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বিট কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলাম বাউপাড়া বিটে থাকাকালীন কাজ বন্ধ ছিল। তিনি একজনকে ধরে চালানও দিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই স্থাপনা তিনটি বাহাদুরপুর মৌজার সিএস ২৩০ নং দাগের জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি বন বিভাগের নামে গেজেটভুক্ত।

তাদের কারও যৌথ ডিমারকেশন নেই। অবশিষ্ট খালি জায়গা এভাবে দখল হওয়ায় বেহাত হচ্ছে বনভূমি।

কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন আলোকিত নিউজের কাছে দাবি করেন, ২৩০ নং দাগের জমি এক সময় গেজেটভুক্ত ছিল। হাল গেজেটে সরকার অবমুক্ত করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফরেস্টাররা আগে গেজেটভুক্ত বলে চা-পানি খেত। এখন চা খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

একইভাবে রওশন হাসপাতালের সামনে গেজেটভুক্ত বনভূমিতে নতুন তিনটিসহ কয়েকটি পাকা দোকান করেছেন নজরুল ইসলাম। সেগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

নজরুলের পুরনো দোকানগুলোর সাথে নতুন দোকান

এ ব্যাপারে বিট কর্মকর্তা আজাদুল কবির আলোকিত নিউজকে বলেন, কাউন্সিলরের নামে খাজনা-খারিজ আছে। গেজেট দিয়ে আমরা শুধু মামলা দিতে পারি। এরপরও আদালত থেকে ইনজাংশন এনেছি।

মোস্তফার বাড়ি প্রসঙ্গে বলেন, দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত আগেই হয়েছে। তখন যারা দায়িত্বে ছিল, তারা করতে দিল কেন? এখন আমার কী করার আছে?

নজরুলের দোকান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে তাদের জমি আছে। ছোটখাট বিষয়ে সবাই কী ডিমারকেশন করে? দখল তো অনেক আগে থেকে হচ্ছে।

রেঞ্জ কর্মকর্তা রেজাউল করিম আলোকিত নিউজকে বলেন, তিনি কিছু জানেন না। খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, বিট অফিস ম্যানেজ না থাকলে শুরুতেই ভেঙে ফেলা হত। গেজেটভুক্ত বনভূমিতে টাকা ছাড়া বাড়ি ও মার্কেট তো দূরের কথা, পাকা টয়লেটও করা যায় না।

একজন বন কর্মকর্তা বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে, বিট অফিসগুলো পিওআর মামলা দিয়েই দায় সারছে। উচ্ছেদের উদ্যোগ খুব কম।

এতে করে দখলীয় বনভূমি উদ্ধার ও বনায়ন হচ্ছে না। বাঘের বাজার এলাকার মন্ডল গ্রুপের ১০ তলা এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

image_printপ্রিন্ট করুন
Share
  • 223
    Shares
আরও খবর