কাপাসিয়ায় শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনালেন এম এ গণি

আলোকিত প্রতিবেদক : গাজীপুরের কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাইজুদ্দিন ফকিরের সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষক মনির হোসেনের পরিচালনায় অতিথি ছিলেন সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ গণি ও বজলুর রশিদ মোল্লা।

এম এ গণি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি ছিলেন পৃথিবীর ১০০ মনীষীর মধ্যে অনন্য ব্যক্তিত্ব।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ ও তৎকালীন সাড়ে সাত কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তার ছয় দফা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ।

১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী হয়। পরে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করে কালক্ষেপণ করে।

বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের তালবাহানা বুঝতে পেরে ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

২৫ মার্চ বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ ও ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলামসহ কয়েকজন নেতা বঙ্গবন্ধুর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করেন।

রাত ১২টার পর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে গেলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাজউদ্দীন আহমদ ও আমীরুল ইসলাম ভারতের উদ্দেশে রওনা হন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে আলোচনার মধ্য দিয়ে মেহেরপুরের আম্রকাননে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নামে অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়।

সেই বিপ্লবী সরকারে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী ও এম এ জি ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক করা হয়।

তাজউদ্দীন আহমদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও মেধায় নয় মাসের মাথায় বিশ্ববাসীর স্বীকৃতি ও সাহায্যের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জিত হয়।

৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমাদের লাল-সবুজের রক্তমাখা পতাকা কিনতে হয়েছে।

Share
  • 96
    Shares
আরও খবর