গাজীপুর বিআরটিএতে এডি মন্টুর ঘুষ বাণিজ্য রমরমা

আলোকিত প্রতিবেদক : তার টেবিলের ড্রয়ার একটু ফাঁকা থাকে। স্বাক্ষরের সময় সেখানে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা ফেলতে হয়। নয়তো কাজ হয় না।

হালকা যানের লাইসেন্সে ২০০ টাকা, মাঝারি ৫০০ টাকা ও ভারী ৭০০ টাকা। মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে দিতে হয় ১৫০০ টাকা।

গাজীপুর বিআরটিএ অফিসের সহকারী পরিচালক এনায়েত হোসেন মন্টুর দুর্নীতির অনুসন্ধানে গেলে লাইসেন্সের কাজে যুক্ত কয়েকজন এভাবেই ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

তারা বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে পদে পদে ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ না দিলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ফাইল আটকে দুর্ব্যবহার করেন।

আলোচিত মন্টু দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি। বিষয়টির ওপর গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ও ৪ নভেম্বর দৈনিক অন্যদিগন্তে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এ নিয়ে চলে ব্যাপক তোলপাড়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু বরখাস্ত কাটিয়ে আবারও আগের কর্মস্থলে দাপটের সাথে বহাল হন মন্টু। এখন তার ঘুষের রেটও বেশি।

ফলে চাহিদা মেটাতে গিয়ে সেবাপ্রার্থীদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। অবাধে চলছে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উত্তর পাশে দ্বিতীয় তলায় বিআরটিএ অবস্থিত। অফিসটির বিভিন্ন রুম ও সামনের খোলা ছাদে দালালদের বিচরণ।

ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে তাদের শরণাপন্ন হতে হয়। বেশির ভাগ টাকা দালালদের মাধ্যমে আদায় করা হয়।

ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আবেদনকারী ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পর লারনার কার্ড দেওয়া হয়। তখন থেকেই শুরু হয় লেনদেন।

কর্মচারীদের মধ্যে টাইগার প্রজেক্টের আলমগীর বেপরোয়া। ফিঙ্গার প্রিন্টের দায়িত্ব থেকে সরানোর পর তিনি লাইসেন্স সাবমিটে নেন ২০০-৫০০ টাকা।

সহকারী পরিচালকের রুমের ভেতরের দরজা বরাবর বসেন অফিস সহায়ক আরিফ। লাইসেন্স ডেলিভারির সময় তাকে দিতে হয় ২০০-৫০০ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, আরিফ বেশি টাকার জন্য যথাসময়ে মেসেজ না পাঠিয়ে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করেন। তিনি ও আলমগীর লাইসেন্সের দালালির সাথেও জড়িত।

এদিকে অফিসটিতে দালালি করে কেউ কেউ নগরীতে জমি কিনে বাড়িও করেছেন। দালাল জাকির দীর্ঘদিন ধরে অফিসে বসেই কাজ করেন। তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত একবার এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

অফিসের নিচে পূর্ব দিকে চা-সিগারেটের দোকান দিয়েছেন শফি। দালালির লাভ দেখে তিনিও ঝুঁকে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে সহকারী পরিচালক এনায়েত হোসেন মন্টুর সাথে দুই দিন মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।

চলবে…

Share
  • 1K
    Shares
আরও খবর