গাজীপুরের বারইপাড়া বিটে ‘ফাউন্ডেশন বাণিজ্যে’ হোসেনের বাজিমাত!

আলোকিত প্রতিবেদক : গাজীপুরে সংরক্ষিত বনের ক্ষতিসাধন করে ফাউন্ডেশন বাণিজ্য চলছেই।

ভাওয়াল রেঞ্জের বারইপাড়া বিটে দীর্ঘদিন ধরে তা চললেও দেখার যেন কেউ নেই।

বিষয়টির ওপর গত ৯ অক্টোবর ও ২৪ ডিসেম্বর আলোকিত নিউজ ডটকমে দুটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন : গাজীপুরে বনের ভেতর ‘ফাউন্ডেশন বাণিজ্য’ জমজমাট

বাণিজ্য সমাচার : বিট অফিসের ২৫ গজ পশ্চিমে ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ি করছেন পিন্টু। ট্রাকযোগে বিট অফিসের সামনের বনভূমির ওপর দিয়ে নেওয়া হচ্ছে নির্মাণ সামগ্রী।

রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার কচি-কাঁচা মাঠের দক্ষিণ পাশে বনের ভেতরে জোতভূমিতে ছয় তলা বাড়ি করছেন প্রকৌশলী মজিবুর রহমান। ইতিমধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বাড়িটিতে গজারি বন ব্যতীত প্রবেশের কোন রাস্তা নেই। গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগও বনের ভেতর দিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর একটু দক্ষিণে পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ি করছেন পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারী আসমা খাতুন। ইট ও বালু স্তূপ করে রাখা হচ্ছে বনের ভেতর।

ক্যান্টনমেন্ট বাজারের পশ্চিম পাশে পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ি করছেন মাকসুদ। ইতিপূর্বে তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে।

ওই বাড়ির পশ্চিমে ফাউন্ডেশন বাড়ির কাজ করছেন আবদুস সাত্তার ও তার মেয়ের জামাই আমিনুল ইসলাম। ইতিপূর্বে চতুর্থ তলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে।

বাড়িটির সামনের অংশ জবর দখল। ক্রমান্বয়ে বন উজাড় হয়ে এখন একাধিক গজারি গাছ মৃত দাঁড়িয়ে আছে।

সংলগ্ন পূর্ব পাশে স্বপ্ননীড় নামে পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন বাড়ির তিন তলার কাজ সম্পন্ন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাসেম সিদ্দিকী। চার ইউনিটের মধ্যে সামনের দুই ইউনিটের কাজ আগে করা হয়।

নয়নপুর পেপসি গেট এলাকায় পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ি করছেন নিজাম। ইতিপূর্বে দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখিত ব্যক্তিদের কারও যৌথ ডিমারকেশন নেই। বিট অফিসের মৌখিক অনুমতিতে বা কথিত লোকাল ডিমারকেশনে দাপটের সাথে চলছে কাজ।

এভাবে ভবন নির্মাণের ফলে ধীরে ধীরে বন উজাড় ও দখল হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে নতুন উদ্ভিদ জন্মানো ও বনের স্বাভাবিক পরিবেশ।

একাধিক বাড়ির মালিক বলেন, যৌথ ডিমারকেশন করলেও নিজস্ব রাস্তা না থাকলে বিট অফিস কাজে বাধা দেয়। তাই ঝামেলায় না গিয়ে এক-দুই লাখ টাকায় ম্যানেজ করে কাজ করা হয়।

হোসেনের বাজিমাত : বনপ্রহরী হোসেন আহমেদ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বারইপাড়া বিটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আছেন। গত বছরের জানুয়ারিতে বিট কর্মকর্তা আজাদুল কবির বদলি হলে সাবেক ডিএফও জহির উদ্দিন আকন তাকে এ দায়িত্ব দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হোসেন আহমেদ সাবেক ডিএফওর ‘এলাকার লোক’ হিসেবে পরিচিত। সুযোগ পেয়ে বেপরোয়া বাণিজ্যে আখের গোছাচ্ছেন তিনি।

সূত্র আরও জানায়, টাকার বিনিময়ে বনের জমিতেও ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ক্যান্টনমেন্ট বাজারের উত্তর পাশে ও সাটিয়াবাড়ী এলাকায় দখল অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন : গাজীপুরে সংরক্ষিত বনের ভেতর ফাউন্ডেশন বাড়ির ছড়াছড়ি

Share
  • 229
    Shares
আরও খবর