কাপাসিয়ায় নূরুজ্জামানের ভেজাল গুড়ে বাজার গরম!

আলোকিত প্রতিবেদক : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নূরুজ্জামানের ভেজাল গুড় কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের লোহাদী নরসিংহপুর এলাকায় তার নিজ বাড়িতে কারখানাটি অবস্থিত।

সরেজমিনে জানা যায়, আমরাইদ বাজারের উত্তর পাশের কোঠামনি বাজার রোড দিয়ে অল্প এগোলে নূরুজ্জামানের বাড়ি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুড়ের ব্যবসা করছেন।

অধিক লাভের আশায় আখের রসের সাথে চিনি ও কাপড়ের রং মিশিয়ে চলছে উৎপাদন। লাখ লাখ টাকার ভেজাল গুড় বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন বাজারে।

নূরুজ্জামান আলোকিত নিউজকে জানিয়েছেন, তিনি রং ব্যবহার করেন না। শুধু চিনি মিশিয়ে গুড় তৈরি করেন।

এক ডিঙ্গিতে জ্বাল করা হয় ১৪ টিন আখের রস। এতে মেশানো হয় আধা বস্তা অর্থাৎ ২৫ কেজি চিনি।

পরে গড়ে ৬০ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি করেন। আমরাইদ, কাপাসিয়া, রাওনাট, তারাগঞ্জ, চরসিন্দুর, হাতিরদিয়া ও মনোহরদীসহ বিভিন্ন বাজারে এ গুড় বিক্রি হয়।

প্রতি টিনে গুড় থাকে ৩০ কেজি। মাঝে-মধ্যে দৈনিক ২০-৩০ টিন অর্থাৎ ৬০০-৯০০ কেজি গুড় উৎপাদন হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এলাকায় চিনি সবাই কম-বেশি দেয়। আমরাইদ বাজারের সাথে একজন দেয় না।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুস সালাম সরকার আলোকিত নিউজকে বলেন, চিনি মিশ্রিত গুড় খেলে পাকস্থলীতে প্রদাহ বেশি হবে। পরে ঘা হয়ে আলসার ও ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।

এদিকে সাংবাদিকদের তথ্যের ভিত্তিতে গত বছরের ১৩ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমত আরা অভিযান চালিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ প্রত্যক্ষ করেন।

তিনি নিজেই গুড়ের টিনের ভেতরে মাছির আস্তরের নিচ থেকে গুড় হাতে নিয়ে বলেন, গুড়ে চিনি মেশানো। এগুলো মানসম্মত না।

পরে রায়েদ ইউপি চেয়ারম্যান হিরণ মোল্লাহর জিম্মায় নূরুজ্জামানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও ভেজাল গুড় ধ্বংস করা হয়নি।

নূরুজ্জামান আলোকিত নিউজকে জানান, তিনি জরিমানার টাকাও মাফ পেয়েছেন। ইউএনও নিষেধ করলেও সংসার চালানোর তাগিদে ব্যবসা বন্ধ করেননি।

এলাকাবাসী বলছেন, এ ধরনের ভেজাল ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হওয়া উচিত। যারা তদবির করে, তাদের মানসিকতাও ভেজাল।

Share
  • 417
    Shares
আরও খবর