গাজীপুরে ১০ কোটি টাকার খাস জমিতে মার্কেট নির্মাণ চলছেই

আলোকিত প্রতিবেদক : গাজীপুরে ১০ কোটি টাকার খাস জমি আত্মসাৎ করে মার্কেটের নির্মাণ কাজ চলছেই।

বিষয়টির ওপর গত ৩ ফেব্রুয়ারি আলোকিত নিউজ ডটকমে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

কিন্তু গত এক মাসেও রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষায় রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নেয়নি জেলা প্রশাসন।

আত্মসাৎ কাহিনি : নগরীর জাঙ্গালিয়াপাড়া এলাকার বাংলাবাজার রোডের একটু উত্তরে আবদুল আজিজের একাধিক বাড়ি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুল। পাশে তার দানকৃত জমিতে কমিউনিটি ক্লিনিক ও ওয়াকফকৃত জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে মসজিদ।

বাংলাবাজার রোড সংলগ্ন অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ জমির অর্ধেকেরও বেশি অংশে একটি পুকুর ছিল। গত বছর বালু ফেলে ভরাট করে তাতে হাজী আজিজ সুপার মার্কেট নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়।

তিন তলা ফাউন্ডেশন মার্কেটটির নিচ তলার কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। শতাধিক দোকান ভাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের জামানত।

স্থাপনাগুলো বাহাদুরপুর মৌজার ১ নং খতিয়ানভুক্ত এসএ ৩০৪ নং দাগে গড়ে উঠেছে। যার বিভক্ত আরএস দাগ নং ৬৫৩।

আবদুল আজিজের একমাত্র ছেলে জাহাঙ্গীর আলম শহরের অন্যতম গ্লাস ব্যবসায়ী। দাগটি পার্ট হওয়ায় বাবার নামে ডিমারকেশন করেছেন তিনি।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এসএ শাখার ১৮১/২০১৮ নং সীমানা নির্ধারণ মামলা অনুযায়ী, বাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনার ৭৭ শতাংশ জমি খাস হিসেবে দেখানো হয়েছে। আর খালি ৭০ শতাংশ জমি দেখানো হয়েছে জোত হিসেবে।

অর্থাৎ ৭৭ শতাংশ জমি অনেক আগে থেকেই তাদের ভোগদখলে। অবশিষ্ট ৭০ শতাংশে মার্কেট নির্মাণের ফলে পুরো সরকারি জমি বেহাত হয়ে গেল।

শিল্প কারখানা অধ্যুষিত ওই এলাকায় বিঘাপ্রতি জমির বর্তমান বাজারমূল্য কমপক্ষে পাঁচ কোটি টাকা। সে হিসাবে দখলীয় জমির মূল্য দাঁড়ায় ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, তঞ্চকতাপূর্ণ ডিমারকেশনটিতে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। সন্দেহের অগ্রভাগে থাকা সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আবুল কালাম বর্তমানে এলএ শাখায় কর্মরত।

একাধিক ভূমি কর্মকর্তা বলেছেন, পার্ট দাগে ডিমারকেশনের সময় সরকারের স্বার্থে রাস্তা সংলগ্ন অংশ অগ্রাধিকার পায়। দখলীয় অংশকে খাস দেখিয়ে খালি অংশ দখলদারের হাতে তুলে দেওয়া গুরুতর অপরাধ।

এ ছাড়া খাস জমি ওয়াকফ বা দান করার এখতিয়ার কোন ব্যক্তির নেই। আগের ভোগদখলীয় অংশই জোত হিসেবে পরিগণিত হবে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মশিউর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি সদর এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলতে বলেন।

পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাবেয়া পারভেজের সাথে দুই দিন যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন : গাজীপুরে ‘প্রশাসনের যোগসাজশে’ ১০ কোটি টাকার খাস জমি আত্মসাৎ

image_printপ্রিন্ট করুন
Share
  • 662
    Shares
আরও খবর