গাজীপুরে বন গিলছে ফু-ওয়াং সিরামিকস : দেখার কেউ নেই

আলোকিত প্রতিবেদক : গাজীপুরে ফু-ওয়াং সিরামিকস কারখানার বনভূমি গ্রাস অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা বন বিভাগের রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের মনিপুর বিটের হোতাপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তা চললেও দেখার যেন কেউ নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত ফু-ওয়াং সিরামিকসের চারদিকে বনভূমি। ইতিমধ্যে পূর্ব দিকের বেত বাগান দখল করা হয়েছে। গাছ মেরে গজারি বনও উজাড় করা হচ্ছে।

বিট অফিস বেশ কয়েক বছর আগে বেত বাগানটি সৃজন করেছিল। এরপর মালিক পক্ষ ধীরে ধীরে কারখানা সম্প্রসারণ শুরু করে।

বাগানের ওপর বর্জ্য ও মাটি ফেলায় গাছগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এখন গাছের বদলে সেখানে বালু ও সাদা মাটির উঁচু স্তূপ।

ঘটনাটির ওপর গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আলোকিত নিউজ ডটকমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে যুক্ত করা হয় বিভিন্ন সময়ে দখল প্রক্রিয়ার ছয়টি ছবি।

এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হলে সাবেক এসিএফ এনামুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু ১৬ মাসেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গত সপ্তাহে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার পূর্ব-দক্ষিণ কোণের আরও প্রায় আধা বিঘা বনভূমি বর্জ্য ফেলে দখল করা হচ্ছে। বিট অফিসের রোপণকৃত আকাশমনি চারাগুলো বিনষ্ট করা হয়েছে।

আকাশমনি বাগান এখন বিরানভূমি

গত বছর বনভূমির ওপর দিয়ে বিকল্প রাস্তা তৈরির সময় বেশ কিছু চারা রোপণ ও বেড়া দিয়ে তা আটকে দিয়েছিল বিট অফিস। পরে রফাদফা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আগের আকাশমনি বাগানের ছবিটি গত ১৯ ডিসেম্বর তোলা

এভাবে আগে দখল করা হয়েছে বেত বাগানের প্রায় এক বিঘা। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।

এ ছাড়া কারখানাটির দূষণে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ-প্রতিবেশ। পরিবেশ অধিদপ্তর ২০১০ সালে প্রায় সাড়ে নয় লাখ টাকা জরিমানা করলেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।

এ ব্যাপারে বিট কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ আলোকিত নিউজকে বলেছেন, ফু-ওয়াং হাইকোর্ট থেকে ইনজাংশন নিয়েছে। তাই তারা ভেতরে গিয়ে নির্মাণ কাজে বাধা দিতে পারছেন না।

বাইরের দখল প্রসঙ্গে বলেন, আমি আসার পর কোন দখল হয়নি। যা হয়েছে, অনেক আগে হয়েছে।

তিনি এও বলেন, ফু-ওয়াং কাজ করার সময় কিছু মাটি বনের পাশে এসেছে। এতে বেত বাগানের তেমন ক্ষতি হয়নি। তারা নিজ উদ্যোগে মাটি সরিয়ে নেবে।

কিন্তু বাস্তব অবস্থা পুরো উল্টো। বিট অফিসের অদূরে এই প্রকাশ্য দখলকাণ্ডে তারা রহস্যজনক নীরবতা পালন করছেন।

গত বছর উত্তর পাশে জমি কিনে গোডাউন নির্মাণ করা হয়েছে। ফু-ওয়াং যৌথ ডিমারকেশন না করলেও বিট কর্মকর্তা কাজের সুযোগ দেন।

একজন বন কর্মকর্তা বলেন, ফু-ওয়াং কর্তৃক বনভূমি বেহাতের পাশাপাশি বনজ সম্পদের বিপুল ক্ষতিসাধন হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সোচ্চার না হলে এসব বন্ধ হবে না।

তিনি আরও বলেন, ফু-ওয়াং কয়েক বছর আগে হাইকোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা নিয়েছে। বন বিভাগ জোরালো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তা নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দখলের জিহ্বা চলে গেছে সীমানার বাইরে। প্রতিষ্ঠানটি এসএ ৫৯৮ নং দাগে জবর দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত।

বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউছুপের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন : গাজীপুরে কোটি টাকার বেত বাগান ফু-ওয়াং সিরামিকসের পেটে!

image_printপ্রিন্ট করুন
Share
  • 759
    Shares
আরও খবর