আলোকিত নিউজকে গ্রিনটেকের লিগ্যাল নোটিশ ও জবাব

আলোকিত প্রতিবেদক : গত ৫ জুলাই আলোকিত নিউজ ডটকমে ‘গাজীপুরে বন কেটে গ্রিনটেকের ড্রেন ও কোয়ার্টার’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এর প্রেক্ষিতে গ্রিনটেক রিসোর্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টারের ম্যানেজার তৌহিদ আজিমের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজমুল হুদা খান গত ১২ জুলাই আলোকিত নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক রুবেল সরকার বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন।

নোটিশে বলা হয়, প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। বনের ওপর দিয়ে রাস্তা, গাছ কর্তন, বন উজাড়, বর্জ্য ফেলা এবং কোয়ার্টার নির্মাণের অভিযোগ বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর।

গ্রিনটেক রিসোর্টের যাবতীয় নির্মাণ কাজ প্রায় ১৫ বছর আগে বন বিভাগের নিয়ম-রীতি এবং বিধি মোতাবেক রাস্তা ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। গুরুতর একাধিক বন অপরাধের অভিযোগ করলেও গ্রিনটেক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়নি।

গ্রিনটেক কর্তৃপক্ষ, বন বিভাগ তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ভিত্তিহীন ও মনগড়া কল্পকাহিনি সৃজন করে মানহানি করা হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ করা হল।

অন্যথায় মানহানি ও ক্ষতিপূরণসহ দেশের প্রচলিত দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আলোকিত নিউজের বক্তব্য : আলোকিত নিউজ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে বনভূমি রক্ষায় বন বিভাগ তথা সরকারকে সহযোগিতা করছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ব্যতীত কোন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

সংরক্ষিত বনের ওপর দিয়ে রিসোর্টে প্রবেশের দুটি পাকা রাস্তা নির্মাণের তথ্য সম্পূর্ণ সত্য। এভাবে রাস্তা নির্মাণ বিধিবহির্ভূত ও বন আইনে অপরাধ।

এ ছাড়া সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে গাছ কর্তন, বন উজাড়, বনের ভেতরে বর্জ্য ফেলা ও কর্মচারীদের কোয়ার্টার নির্মাণের তথ্যও মিথ্যা নয়। ২০১৮ সালের ও চলতি বছরের প্রতিবেদনে যুক্ত সাতটি ছবিতে দৃষ্টি রাখলে সহজে বোধগম্য হবে।

আরও পড়ুন : গাজীপুরে গাছ কেটে গ্রিনটেকের বন উজাড়!

করোনা মহামারির সুযোগে বনের ক্ষতিসাধন করে রিসোর্টের ভেতরের পানি নির্গতের ড্রেন খনন করা হয়েছে। গত ৫ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনের ছবিটি ৪ মে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে তোলা।

ছবি যেখানে হাজারো শব্দের কথা বলে, সেখানে অপরাধ ঢাকতে মিথ্যাচার ও মামলার হুমকি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আর করোনার কারণে গ্রিনটেকে প্রবেশ সংরক্ষিত থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বারইপাড়া বিট অফিস এক পত্রে জানিয়েছে, গ্রিনটেক রিসোর্ট সিএস ৯৬৬, ১২৮৭, ১২৯০ ও ২৮৬৫ নং দাগের ৫৪ শতাংশ বনভূমি দখল করেছে। গত ২৪ মার্চ উচ্ছেদ মামলা করা হয়েছে।

এতে ভারপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা হোসেন আহমেদ ড্রেন ও স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণের তথ্যও উল্লেখ করেছেন। তবে এসব এক যুগ আগে নির্মিত হয়েছে বলে তার দাবি।

অপরদিকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চিহ্নিত দখলদারদের তালিকায়ও গ্রিনটেক রিসোর্টের নাম রয়েছে।

অতএব, রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা হোক, আইন মেনে প্রতিষ্ঠানও চলুক-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন : গাজীপুরে গ্রিনটেক রিসোর্টে বন বিভাগের অভিযান

image_printপ্রিন্ট করুন
Share
  • 152
    Shares
আরও খবর