কাপাসিয়ার কপালেশ্বরে কয়লা কারখানার দূষণ চলছেই (ভিডিও)

আলোকিত প্রতিবেদক : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এবার নিলামে লাকড়ি ও চুল্লি কিনে কয়লা উৎপাদন করা হচ্ছে।

উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে দিন-রাত অবাধে চলছে এই দূষণযজ্ঞ।

সরেজমিনে জানা যায়, শ্রীপুরের জামান স্থানীয় মোশারফ মেম্বারের আধা বিঘা জমি ভাড়া নিয়ে অবৈধভাবে কারখানাটি গড়ে তুলেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমত আরা গত ২ জুলাই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এ সময় অভিযুক্তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে কারখানাটি সাত দিনের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

কিন্তু কিছুই সরাননি জামান। হঠাৎ করে পুনরায় কাঁচা লাকড়ি পুড়িয়ে কয়লা উৎপাদন শুরু হয়।

গত ১৪ অক্টোবর ইউএনও আবারও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়লা, লাকড়ি ও ইটসহ মালামাল নিলামে বিক্রির নির্দেশ দেন।

তখন তরগাঁও ইউনিয়নের দেওনা গ্রামের আবুল কাশেম প্রথম ও সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এক লাখ ৫৫ হাজার টাকায় সকল মালামাল কিনে নেন।

মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায়, কাশেম বড় বড় চারটি চুল্লিতে লাকড়ি পুড়িয়ে কয়লা উৎপাদন করছেন। ধোঁয়া ও ঝাঁঝালো গন্ধে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।

এভাবে উৎপাদিত কয়লা ব্যাটারির সিসা গলানোর কারখানায় বিক্রি করা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এসব চললেও প্রশাসনের তৎপরতা নেই।

জানতে চাইলে কাশেম আলোকিত নিউজকে বলেন, তারা ইউএনওকে বলে লাকড়ি পোড়ানোর সময় নিয়েছেন। আরও আট দিন সময় আছে।

তবে ইউএনও স্বাক্ষরিত মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার পত্রে পোড়ানোর সময় দেওয়া সংক্রান্ত কোন কিছু উল্লেখ নেই।

একজন সরকারি কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করে আলোকিত নিউজকে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত দুবার অভিযান চালানোর পরও চুল্লি চালু থাকে কীভাবে? নির্দেশ অমান্য করায় নিলাম ক্রয়কারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এদিকে জামানের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিলামের সময় তিন লাখ ২৫ হাজার টাকার কয়লা, ১৯০০ মণ লাকড়ি (১১০ টাকা মণ), ১৩ গাড়ি ইট (১৬ হাজার টাকা গাড়ি), ৫০০ পিস বস্তা (১০০ বস্তা ৪১০০ টাকা) ও টিনসহ অন্যান্য মালামাল ছিল। যার মূল্য সাত-আট লাখ টাকা।

একাধিক ব্যবসায়ী আলোকিত নিউজকে বলেন, মালামাল জব্দের পর মাইকিং করে নিলাম আহ্বান করলে বেশি ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করতে পারতেন। সেখানে প্রতিযোগিতা হলে সরকারি কোষাগারে বেশি টাকা জমা হত।

তারা আরও বলেন, তাৎক্ষণিক নিলাম হওয়ায় এলাকার দু-একজন ছাড়া অন্য ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করতে পারেননি। দূরের তিনজন মিলে কৌশলে ব্যবসা ও ক্ষতি-দুটোই করলেন।

এ ব্যাপারে ইউএনও ইসমত আরার সাথে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল ধরেননি।

ভিডিও :

image_printপ্রিন্ট করুন
Share
  • 290
    Shares
আরও খবর