হে তাজউদ্দীন, তুমি অগ্নিশিখা হয়ে জ্বলবে

এম এ গণি, বীর মুক্তিযোদ্ধা : সুধাময়ী ওগো মোর, নিও মোর মধুমাখা প্রেম সম্ভাষণ। নীরব দিনগুলোর মাঝে, তোমার স্বপ্নমাখা মুখখানার দিকে চেয়ে আছি। অনাবিল দিগন্তের মাঝে কী যেন একটা ফাঁকা মনে হচ্ছে।

শুধুই রিক্ততা আর অনাদর। তবু আজ আমি ধন্য। তোমার হৃদয় মাঝে জেগে আছি বলে।

আমার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ। বিগত দিনগুলো কীভাবে কেটেছে? আমি যেন একটা অন্ধ কুহেলিকার মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছি।

তবুও আজ আমার বেঁচে থাকতে হবে, বেঁচে থাকতে হবে তোমাকে দুঃসময়ের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য।

যে লালিত স্বপ্ন নিয়ে স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর সাথে ছায়ার মত থেকে, বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে একটি বিপ্লবী সরকারের মাধ্যমে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে, ৩০ লাখ শহীদের বুকের তাজা রক্ত ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে খরিদ করেছিলে প্রিয় স্বাধীনতা।

হে তাজউদ্দীন আহমদ, কত না চড়াই-উৎরাইয়ের মাঝে নানাবিধ চক্রান্তের নীলনকশা মোকাবেলায় তোমাকে স্থির থাকতে হয়েছে, তার কোন সীমারেখা ছিল না।

এত লড়াই-সংগ্রামের মাঝে মীরজাফর মোশতাককেও তুমি চিনতে ভুল করনি। তোমার জীবনে যে ভুল ছিল, তা ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবিচল আস্থা আর জন্মভূমির প্রতি অকুণ্ঠ ভালবাসা।

তুমি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ ও বাঙালির স্বাধীনতা রক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখেছো। বিলিয়ে দিয়েছো জীবনের সকল অর্জন।

বাংলা মাকে ভালবাসায় তোমার কোন খাদ ছিল কি না, তার প্রমাণ রেখে গেছো মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার আদর্শের একজন লড়াকু সৈনিক বেঁচে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি এক অগ্নিশিখা হয়ে জ্বলবে।

৯৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বিনম্র শ্রদ্ধা ও লাল সালাম তোমায়।

লেখক : সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

image_printপ্রিন্ট করুন
Share
আরও খবর