কাপাসিয়ার টোক সরজুবালা হাইস্কুলে দুলাল কবিরের ব্যাপক দুর্নীতি

মাহাবুর রহমান, কাপাসিয়া : গাজীপুরের কাপাসিয়ার টোক সরজুবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার টোক ইউনিয়নের টোক নয়ন বাজারের পাশে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ১৯১৪ সালে স্থাপিত হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টোক সরজুবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুলাল কবির ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যোগদান করেন। পাঁচ মাসের ব্যবধানে তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ ওঠে।

ম্যানেজিং কমিটির সিদান্ত অনুযায়ী, সাবেক নৈশপ্রহরী ইউসুফ আলীকে চার হাজার টাকা বেতনে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এক বছরে ৪৮ হাজার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও পেয়েছেন মাত্র নয় হাজার টাকা। বাকি টাকা প্রধান শিক্ষক আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ।

ইউসুফ আলী আলোকিত নিউজকে বলেন, আমার ছোট ভাইকে নৈশপ্রহরী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে প্রধান শিক্ষক তিন লাখ টাকা দাবি করেন। পরে আমি স্যারের হাতে দুই লাখ টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখনো নিয়োগ হয়নি।

একাধিক সহকারী শিক্ষক আলোকিত নিউজকে জানান, প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে চার লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের জন্য দুদক থেকে দুবারে আসা আট হাজার ৭০০ টাকারও হদিস নেই।

এ ছাড়া প্রধান শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের এক্সটারনাল ও ইন্টারনাল শিক্ষকদের সম্মানী ভাতার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় শিক্ষক হাসেম মোড়ল গত ৩১ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

পরে দায়িত্ব পেয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আনোয়ার পারভেজ সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইউএনও ইসমত আরা গত ১৫ অক্টোবর প্রধান শিক্ষককে আত্মসাৎকৃত দুই লাখ ৪৯ হাজার নয় টাকা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিয়ে রসিদের ফটোকপি জমাদানের নির্দেশ দেন।

আনোয়ার পারভেজ আলোকিত নিউজকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে প্রধান শিক্ষক টাকা আত্মসাতের সাথে জড়িত বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ইউএনও তাকে টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এটা না করলে তার বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার সিংহশ্রী কেন্দ্রের শিক্ষকদের সম্মানীর টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই বিষয়ে আমি জানি ও চিঠি করিয়েছি। কেন্দ্র সচিবরা একেকজনে একেক চিন্তা করেন।

এদিকে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ থাকার পরও প্রধান শিক্ষক কৌশলে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন তিন বছর ধরে আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ।

গত ২০১৬ সালে ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম ওরফে চানু মেম্বার দেড় লাখ টাকার হিসাব দিতে না পারায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিলেন।

জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক দুলাল কবির আলোকিত নিউজকে বলেন, এসব মিথ্যা, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এটা টোক, এখানে অনেক কিছুই হয়।

image_printপ্রিন্ট করুন
Share
আরও খবর