কাপাসিয়ার লোহাদীতে ‘ভেজাল গুড়ের কারখানা’ চলছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, কাপাসিয়া : ভ্রাম্যমাণ আদালত দুবার অভিযান চালালেও বন্ধ হয়নি নূরুজ্জামানের ভেজাল গুড়ের কারখানা।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের লোহাদী নরসিংহপুর এলাকার নিজ বাড়িতে তিনি কারখানাটি গড়ে তুলেছেন।

আমরাইদ বাজারের উত্তর পাশের কোঠামনি বাজার রোডে নূরুজ্জামানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নোংরা পরিবেশে আখের রসের সাথে চিনি ও কাপড়ের রং মিশিয়ে গুড় উৎপাদন করা হচ্ছে। বেশি লাভের আশায় তিনি নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করছেন না।

প্রতি টিনে গুড় থাকে ৩০ কেজি। মাঝে-মধ্যে দৈনিক ২০-৩০ টিন অর্থাৎ ৬০০-৯০০ কেজি গুড় উৎপাদন হয়।

এভাবে উৎপাদিত গুড় আমরাইদ, কাপাসিয়া, রাওনাট, তারাগঞ্জ, চরসিন্দুর, হাতিরদিয়া ও মনোহরদীসহ বিভিন্ন বাজারে গড়ে ৬০ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমত আরা ২০১৯ সালের ১৩ জুন প্রথমবার নূরুজ্জামানের কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেন।

সে সময় রায়েদ ইউপি চেয়ারম্যান হিরণ মোল্লাহর জিম্মায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও ভেজাল গুড় ধ্বংস করা হয়নি।

এরপর গত ২ মে দ্বিতীয়বার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও ইসমত আরা।

এই অভিযানে নূরুজ্জামানকে ভেজাল গুড় উৎপাদন ও মজুতের দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২০ বস্তা গুড় জব্দ করা হয়।

এলাকাবাসী জানান, অভিযানের পর কিছুদিন গুড় উৎপাদন বন্ধ থাকে। পরে আবার শুরু হয়। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া দরকার।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত নূরুজ্জামান আলোকিত নিউজকে বলেন, আপনাদের সাথে তো আর মিছামিছি বলা যাবে না। গুড়ে শুধু চিনি মিশাই, অন্য কিছু না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সালাম সরকার আলোকিত নিউজকে জানিয়েছেন, চিনি মিশ্রিত গুড় খেলে পাকস্থলীতে প্রদাহ বেশি হয়। পরে ঘা হয়ে আলসার ও ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমত আরার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

image_printপ্রিন্ট করুন
Share
  • 251
    Shares
আরও খবর