গাজীপুরের ভবানীপুরে বনের পুকুর ভরাট করে রাস্তা তৈরির তোড়জোড়

আলোকিত প্রতিবেদক : গাজীপুরে বনভূমির ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরির তৎপরতা চালাচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠান হামজা গ্রুপ।

ভাওয়াল রেঞ্জের ভবানীপুর বিট এলাকার সিএস ১২৭২ নং দাগের ওই জমি বন বিভাগের নামে গেজেটভুক্ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবানীপুর এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন পশ্চিম পাশে হামজা গ্রুপের একটি বড় প্রজেক্টের কাজ প্রক্রিয়াধীন। এর পশ্চিম পাশে মালিক আবুল কাশেম আরও জমি কিনছেন।

ওই জমিতে যাতায়াত ও গাড়ি চলাচলের জন্য প্রায় ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তা তৈরির কাজ সম্প্রতি শুরু হয়। ইতিমধ্যে বনভূমিতে সৃষ্ট পুকুরের কিছু অংশও মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে।

ঘটনাটি গত ৩ মার্চ সকালে বিট কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিনকে জানালে তিনি গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। তবে ভেকু জব্দ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, ১২৭২ নং দাগের জমি পার্ট নয়, সরাসরি গেজেটভুক্ত। আরএস রেকর্ডের নকশায় সেখান দিয়ে ১৫ ফুট প্রস্থের একটি রাস্তা উল্লেখ রয়েছে।

তবে সিএসমূলে কার্যক্রম চলায় পুরো জমির মালিক বন বিভাগ। বনায়ন না করে খালি ফেলে রাখায় বেদখলের পরিমাণ বাড়ছে।

এলাকাবাসী জানান, ওই রাস্তা নকশায় থাকলেও বাস্তবে নেই। চলাচলের জন্য ফরিদ মেম্বারের বাড়ির সামনে দিয়ে গেজেটভুক্ত দাগেই একটি রাস্তা আছে।

রাস্তার নামে বনভূমি দখল

হিসাব করে দেখা গেছে, রাস্তাটি করার সুযোগ দিলে পৌনে সাত শতাংশ বনভূমি বিলীন হবে। যার বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ২০ লাখ টাকা।

এদিকে আরএস নকশা অনুযায়ী নতুন রাস্তার সীমানা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় একজনকে দিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করানো হয়েছে।

জানতে চাইলে বিট কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন আলোকিত নিউজকে বলেন, আমি ডিমারকেশনের চিঠি পেয়েছি। মেপে প্রতিবেদন দিয়ে দিব।

গেজেটভুক্ত বনভূমি দিয়ে রাস্তা পেতে পারে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরএস রেকর্ডে তো রাস্তা। তারপরও আমরা দেখব।

একজন বন কর্মকর্তা বলেন, দাগটি যেহেতু পার্ট নয়, সেহেতু বাণিজ্যিক উদ্দেশে নতুন করে রাস্তা দিলে বন ও পরিবেশের ক্ষতি ক্রমান্বয়ে বাড়বে। সিএস অগ্রাহ্য করলে বন বিভাগের বহু জমি হাতছাড়া হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে হামজা গ্রুপের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

image_printপ্রিন্ট করুন
Share
  • 276
    Shares
আরও খবর