ভালুকার দূষিত পানি গাজীপুরের শীতলক্ষ্যায়, দেদারছে মরছে মাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীপুর : গাজীপুরের শ্রীপুর, কাপাসিয়া ও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা ঘেঁষে বয়ে গেছে শীতলক্ষ্যা ও বানার নদী।

কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে তিন উপজেলার সংযোগস্থল ও আশপাশের এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে মাছসহ জলজ প্রাণী আধমরা হয়ে ভেসে উঠছে।

ভেসে ওঠা মাছ ও পানি খেয়ে মারা যাচ্ছে হাঁস। চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন নদী পাড়ের মানুষ।

শ্রীপুরের নান্দিয়া সাঙ্গুন এলাকার দক্ষিণপাড়ার কলেজ ছাত্র মারুফ, অমি ও দুর্জয় বলেন, গত রবিবার হঠাৎ করে নদীর পানির রং কালচে হয়ে ওঠে। পরে ভেসে ওঠা মাছ ধরতে শত শত মানুষ নেমে পড়েন।

স্কুলছাত্র ওমর ফারুক জানায়, পানিতে নামার পর তার হাত-পায়ে চুলকানি ও চামড়ায় লাল ক্ষত দেখা দিয়েছে।

মাইক্রোবাস চালক মোশারফ হোসেন বলেন, আমি দুই দিনে ১২ কেজি মাছ ধরেছি। ভালুকা থেকে কারখানার বিষাক্ত পানি নদীতে ছেড়ে দেওয়ায় মাছ আধমরা হয়ে ভেসে উঠছে।

আক্কাস আলীর ছেলে আবুল কাশেম তার বাঁ পায়ের লাল বর্ণের ক্ষত দেখিয়ে বলেন, গত সোমবার পানিতে নেমে মাছ ধরতে গেলে তার এ অবস্থা হয়।

সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন বলেন, আধমরা মাছ খেয়ে গত মঙ্গলবার ও বুধবার তার একটি রাজহাঁসসহ পাঁচটি হাঁস মারা গেছে।

গৃহিণী নুরুন্নাহার বলেন, গত সোমবার আধমরা মাছ ও পানি খেয়ে তার নয়টি ডিমপাড়া হাঁস মারা গেছে।

জেলে ফারুক হোসেন জানান, ভালুকার বিভিন্ন কারখানার বিষাক্ত পানি খিরু, সুতিয়া ও ধাত্রী নদী দিয়ে গাজীপুরের বানার ও শীতলক্ষ্যা নদীতে ঢুকছে। মাছ মরে যাওয়ায় তাদের জীবিকার ওপর প্রভাব পড়ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুস ছালাম বলেন, কারখানার বর্জ্য মিশ্রিত পানিতে শ্বাস প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে জলজ প্রাণীগুলো আধমরা বা মারা যেতে পারে। এসব মাছ খাওয়া মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক ফরিদ আহমদ জানান, তিনি গাজীপুর পরিবেশ অফিসের মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছেন। ভালুকার কারখানাগুলোর পানি বছরে তিনবার ল্যাবে টেস্ট করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বেশির ভাগ কারখানার ইটিপি ভালো। আমাদের অগোচরে কোন কারখানা ইটিপি ব্যবহার না করে থাকলে সমস্যা হতে পারে।

image_printপ্রিন্ট করুন
Share
  • 89
    Shares
আরও খবর