গাজীপুরের গজারিয়া পাড়ায় ৩ মাদ্রাসা শিক্ষকের স্কুল ব্যবসা রমরমা

আলোকিত প্রতিবেদক : গাজীপুরের গজারিয়া পাড়ায় সরকারি সুবিধাভোগী তিন মাদ্রাসা শিক্ষক কিন্ডারগার্টেন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন।

গত কয়েক বছর ধরে এই অনিয়ম চলে আসছে। তারা নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করছেন না।

সরেজমিনে জানা যায়, মহানগরীর ২২ নং ওয়ার্ডে গজারিয়া পাড়া হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা অবস্থিত। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক হাফিজ উদ্দিন, আবদুস ছালাম ও শফিকুল ইসলাম দুটি কিন্ডারগার্টেন খুলে রমরমা ব্যবসা করছেন।

এর মধ্যে হাফিজ উদ্দিনের বোনের স্বামী আবদুস ছালাম। তারা মাদ্রাসার পাশেই ২০১২ সালে ব্রিলিয়ান্ট এডুকেশন স্কুল খুলেন। এতে শিক্ষার্থী এখন ২২০ জন।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক আবদুস ছালামের স্ত্রী সোহানা আক্তার। স্কুলের দেয়ালসহ অন্যান্য স্থানে প্রচারিত ভর্তির বিজ্ঞাপনে হাফিজ উদ্দিন ও আবদুস ছালামের মোবাইল নম্বর দেওয়া রয়েছে।

হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নয়াপাড়ার ব্যক্তি মালিকানাধীন ফিজিক্যাল এডুকেশন কলেজে খন্ডকালীন চাকরি করারও অভিযোগ রয়েছে।

brilliant

অপরদিকে শফিকুল ইসলাম মাদ্রাসার অল্প দক্ষিণে জমি কিনে করা নিজের বাড়িতেই গিঞ্জি পরিবেশে অগ্রযাত্রা বিদ্যানিকেতন নামে স্কুল খুলেছেন।

২০০৯ সালে চালু হওয়া স্কুলটিতে শিক্ষার্থী এখন ২৪০ জন। আর স্কুলটির প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের স্ত্রী মানসুরা আক্তার।

স্কুলের উত্তরে খাসপাড়া রোডের পাশে দেয়াল লিখনসহ অন্যান্য স্থানে প্রচারিত ভর্তির বিজ্ঞাপনে শফিকুল ইসলামের মোবাইল নম্বর দেওয়া রয়েছে।

একাধিক অভিভাবক জানান, ওই শিক্ষকরা ভাল পড়ালেখার কথা বলে ছাত্র-ছাত্রী বাগিয়ে নিচ্ছেন। অথচ তাদের স্কুলে খরচ বেশি। যোগ্য শিক্ষকেরও অভাব।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসায় বসে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সাথে কথা হয় আলোকিত নিউজের।

তারা প্রথমে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। পরে ভর্তির বিজ্ঞাপনে মোবাইল নম্বর থাকা ও নিজের বাড়িতেই স্কুল করার প্রসঙ্গ তুললে চুপসে যান।

এ সময় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আবদুল মতিন বলেন, মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যাবে না। অন্য সময় করতে পারেন।

জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, সরকারি সুবিধাভোগী শিক্ষকরা এভাবে স্কুল পরিচালনা করতে পারেন না। চাকরিবিধি অনুযায়ী এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আরও খবর